Posts

Showing posts from February, 2025

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা - অধ্যায় ৬, শ্লোক ৩৪

  শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা - অধ্যায় ৬, শ্লোক ৩৪ अर्जुन उवाच चञ्चलं हि मनः कृष्ण प्रमाथि बलवद् दृढम् । तस्याहं निग्रहं मन्ये वायोरिव सुदुष्करम् ॥ ३४ ॥ বাংলা অনুবাদ: অর্জুন বললেন— "হে কৃষ্ণ! মন তো চঞ্চল, বিক্ষুব্ধ, প্রবল এবং কঠোর! আমি মনে করি এর সংযম করা বায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করার মতোই অত্যন্ত কঠিন।" ব্যাখ্যা: এই শ্লোকে অর্জুন শ্রীকৃষ্ণকে জানাচ্ছেন যে মন অত্যন্ত চঞ্চল এবং বায়ুর মতোই অস্থির। মনকে সংযত করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে হয়, কারণ এটি খুব সহজেই বিভিন্ন চিন্তা ও ইচ্ছার দ্বারা আন্দোলিত হয়। এই অনুভূতি আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও সত্য। আমরা ধ্যান বা কোনো কাজে একাগ্রতা অর্জন করতে চাই, কিন্তু মন বারবার অন্য দিকে চলে যায়। অর্জুন এখানে সেই বাস্তব সমস্যার কথাই তুলে ধরেছেন, যা সকল যোগসাধকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীকৃষ্ণ পরবর্তী শ্লোকে এই সমস্যার সমাধান দেবেন এবং ব্যাখ্যা করবেন কিভাবে অভ্যাস ( অভ্যাসেন ) ও বৈরাগ্যের ( বৈরাগ্যেন ) মাধ্যমে মনকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা - অধ্যায় ৬, শ্লোক ৩৩

  শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা - অধ্যায় ৬, শ্লোক ৩৩ অর্জুন উবাচ: योऽयं योगस्त्वया प्रोक्तः साम्येन मधुसूदन । एतस्याहं न पश्यामि चञ्चलत्वात्स्थितिं स्थिराम् ॥ ३३ ॥ বাংলা অনুবাদ: অর্জুন বললেন— "হে মধুসূদন! আপনি যে সমদর্শিতার দ্বারা যোগের কথা বলেছেন, আমি তার স্থিরতা দেখতে পাচ্ছি না, কারণ মন চঞ্চল।" ব্যাখ্যা: এই শ্লোকে অর্জুন তার দুশ্চিন্তা প্রকাশ করছেন। শ্রীকৃষ্ণ যোগের মাধ্যমে সমদর্শিতা (সর্বত্র সমানভাবে দৃষ্টিভঙ্গি) অর্জনের কথা বলেছেন, কিন্তু অর্জুন মনে করেন যে মন অত্যন্ত চঞ্চল, এবং তাই এটি স্থিরভাবে সেই যোগপথে স্থিত থাকতে পারবে না। অর্জুনের এই প্রশ্ন খুবই বাস্তব এবং আমাদের জীবনেও প্রযোজ্য। আমাদের মন সর্বদা বিভিন্ন চিন্তা ও ইচ্ছার দ্বারা আন্দোলিত হয়, তাই একে একাগ্র ও স্থির করা কঠিন বলে মনে হয়। পরবর্তী শ্লোকগুলিতে শ্রীকৃষ্ণ ব্যাখ্যা করবেন কিভাবে নিয়মিত অভ্যাস এবং বৈরাগ্যের মাধ্যমে মনকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা অধ্যায় ৬, শ্লোক ৩৮:

  শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা অধ্যায় ৬, শ্লোক ৩৮ : শ্লোক (সংস্কৃত) कच्चिन्नोभयविभ्रष्टश्छिन्नाभ्रमिव नश्यति । अप्रतिष्ठो महाबाहो विमूढो ब्रह्मणः पथि ॥ ३८ ॥ বাংলা অনুবাদ "হে মহাবাহু (অর্জুন)! যে যোগীর সাধনা ব্যর্থ হয়, সে কি উভয় ক্ষেত্রেই (আধ্যাত্মিক ও পার্থিব) ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়? সে কি ছিন্ন মেঘের মতো বিলীন হয়ে যায়, যা কোন কিছুর আশ্রয় পায় না এবং ব্রহ্মজ্ঞান লাভের পথ থেকে বিচ্যুত হয়?" ব্যাখ্যা এই শ্লোকে অর্জুন ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে প্রশ্ন করছেন যে, যদি কেউ যোগের পথে চলতে গিয়ে মাঝপথে তার সাধনা পরিত্যাগ করে, তবে সে কি আত্মার মুক্তি লাভ করতে পারে? নাকি সে পার্থিব জীবনেও ব্যর্থ হয় এবং আধ্যাত্মিক জগতে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে? অর্জুনের এই প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মনেও আসে—যদি কেউ আধ্যাত্মিক সাধনা শুরু করে কিন্তু শেষ করতে না পারে, তবে তার ভবিষ্যৎ কী হবে? শ্রীকৃষ্ণ এই প্রশ্নের উত্তর পরবর্তী শ্লোকগুলিতে প্রদান করবেন, যেখানে তিনি ব্যাখ্যা করবেন যে, এমন যোগীরা পরবর্তী জন্মে উন্নত অবস্থানে জন্মগ্রহণ করে এবং পূর্বজন্মের সাধনার ফল লাভ করে।

@harakrishnakrishnavajan

Image